সাধারণত শুক্রবার বাসায় কাটাই। তবে এই সপ্তাহে কেন যেন বাসায় যাওয়ার প্রতি খুব একটা আগ্রহ বোধ হয় নাই। তাই একটু ‘হিম্মত’ করে মাদরাসায় থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি। তবে কিভাবে কাটাবো সেটার কোনো প্ল্যান ছিল না মাথায়। ‘জীবনের খেলাঘর’– এর অল্প কিছু বাকি ছিল, সেটা শেষ করি বৃহস্পতিবার রাতে। তবে শুক্রবারটা অর্ধেক ঘুমেই কেটেছে বলা চলে। তবে জুমার পর খেয়েদেয়ে ভাবলাম কোথাও হালকা করে ঘুরে আসা যায় কিনা। আশেপাশে অল্প সময়ে দেখার মতো কোন জায়গা আছে সাথীদের জিজ্ঞেস করতে জানতে পারলাম এদিকেই কোথাও বাংলাদেশের প্রখ্যাত আলেমেদ্বীন মুফতীয়ে আযম আমীমুল ইহসান মুজাদ্দেদী রহ. এর মাকবারা আছে। ভাবলাম, এত বড় মানুষ আমার এত কাছে চিরনিদ্রায় শায়িত, অথচ একটি বারের জন্যেও তাঁর কবর যিয়ারত করতে পারলাম না; এটাতো আমাদের জন্যে রীতিমতো অপরাধ। তাই সাথী একজন জুটিয়ে বেরিয়ে পড়লাম খেয়েদেয়ে। ঠিকানা পুরোপুরি জানা না থাকলেও গন্তব্যে পৌঁছাতে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি।
•
মসজিদের নাম ‘মুফতি-এ-আযম জামে মসজিদ’। ভেতরের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে শায়খের মাযার। ব্যাপারটা একটু দুঃখজনকই লেগেছে— যে মানুষটি আজীবন কুরআন-সুন্নাহ এবং উম্মতের দরদী দাঈ হয়ে বেঁচে ছিলেন, মৃত্যুর পর সেই মানুষটিকে ঘিরেই কত ধরনের বিদআতি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে!
যাইহোক, মাকবারা যিয়ারত করে পাশে বিল্ডিংয়ের খানকার পাশ থেকে একটু ঘুরে আসলাম। হযরতের বাসভবনও এখানেই। তবে এসবে আর সেই প্রাচীনত্বের ছোঁয়া অবশিষ্ট নেই। সবকিছু আধুনিক শেকেলের।
বলা যায় একেবারে কম সময়ের মধ্যেই ছোট্ট সফর শেষে মাদরাসায় ফিরে এলাম। মনে মনে নিজেকে অনেকটা ধন্য মনে হচ্ছিল এমন বড় মানুষের রুহানি সান্নিধ্য নিতে পেরে।
১২। ০৬। ২০২৬