আজকে ছুটি হলো মাদরাসার। তবে বরাবরের মতোই ছুটিটাকে আরো উত্তেজক করে তুলতে মাদরাসার পক্ষ থেকে পরীক্ষা নামক জন্তুটাকে লেলিয়ে দেয়া হয়। ভাবছিলাম তাখাসসুসে এসে হয়ত এর থেকে নিস্তার পাব। কিন্তু আমার সৌভাগ্যই বলা যায়– আমার পুরো ছাত্র জীবনের কোনো বছরই মাসিক পরীক্ষা দেয়া ছাড়া ছুটি পাই নাই। এবারও তাই হলো। তবে কিছুটা ছাড় তো পেয়েছি বলা যায়। অন্যান্য বছর যেভাবে ঘটা করে তিন চারদিন সময় নিয়ে আনুষ্ঠানিকতার সাথে পরীক্ষা নেয়া হয়; এবার সেটা ছিল না। মাদরাসা থেকে পূর্ব থেকে ঘোষণা দেয়া ছিল যে প্রথম বর্ষে কুরবানীর আগে কয়েকটা কিতাব পরীক্ষা হয়। তাই এর জন্যে আলাদা করে আর কোনো উদ্যোগ ছিল না। কোনো খেয়ারও দেয়া হয় নাই। তবে প্রশ্নপত্র যিনি লিখছেন, তিনি অনেকদিন আগেই বলে দিছিলেন যে প্রশ্ন কোন তালের হবে। তাই মানসিকভাবে সেভাবেই প্রস্তুত ছিলাম। যে তিন কিতাব পরীক্ষা ছিল সেগুলো হলো– লখনবী রহ. এর النافع الكبير، مقدمة عمدة الرعاية এবং ইমাম নববী রহ. এর آداب الفتوى والمفتي والمستفتي। আর সাথে কিতাব পরিচিতি কেন্দ্রিক কিছু বিষয় ছিল।
যাকগে, আগেরদিন থেকেই ইচ্ছা ছিল– আজকে বাংলাবাজারের দিকে যাব। আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের গিফট ভাউচারের কিতাবগুলোর সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে। তাই পরীক্ষা দিয়ে হালকা খেয়েদেয়ে প্রচন্ড রোদের মাঝেই সাহস করে বেরিয়ে গেলাম। আযহারে গিয়ে আগে থেকে বাছাই করা কিতাবগুলো নিয়ে গেলাম আমাদের মেশকে। অনেকদিন হলো যাওয়া হয় না, তাই আজকে মোটামুটি অনেকক্ষণই ছিলাম বলা যায়। তার উপর মেশকের নতুন আউটলেট ঘুরে আসলাম। নতুন শাখার বিষয়ে অনেকেই হয়তো জানেন না। এবিষয়ে অন্যদিন কথা হবে। যাইহোক, কয়েকজনের পরামর্শে যে কিতাবগুলো নিলাম—
١. نصب الراية تخريج أحاديث الهداية
٢. حكايات من التاريخ
আল্লাহর কী ফয়সালা, যে প্রচন্ড রোদের মাঝে কষ্ট করে কিতাব আনতে গেলাম, সেখান থেকেই ফিরতি পথে উল্টো মারাত্মক বৃষ্টিতে ভিজে পুরো একাকার হয়ে বাসে উঠতে হলো। মনে হয়েছিল যেন কেউ এই মাত্র এক বালতি পানি মাথায় ঢেলে দিয়েছে। যাইহোক কিতাবগুলো ভালোভাবে প্যাকেটিং করা থাকার কারণে সেগুলোর তেমন সমস্যা হয়নি। এই ঝড় তুফানের এতটুকুই স্বস্তি দিলো।
২৪। ০৫। ২০২৬
রবিবার, কুরবানীর ছুটির প্রথম দিন
মালিবাগ, চৌধুরীপাড়া, ঢাকা।