✨ GEMINI LIVE
🗓️ --
-- : -- : -- --

আফফান লাবীব

লাবীবের খেরোখাতা · চিন্তা ও পাঠের নিভৃত আঙিনা

তাখাসসুসের জীবন শুরু

আফফান লাবীব আফফান লাবীব আফফান লাবীব
আফফান লাবীব তাখাসসুস ফিল আদব ও ইসলামিক স্টাডিজ
· ৫ মিনিটে পাঠ্য · 👁️ --

প্রায় পনের বছরের একাডেমিক পড়াশোনার পর আজ থেকে শিক্ষাজীবনের এক নতুন যুগ শুরু হতে যাচ্ছে। তবে ভেতরে ভেতরে আজও নিজেকে সেই নিচের ক্লাসের কম বয়সি ছেলেটাকেই আবিষ্কার করি। বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়– এখন চাইলেও আর সেই জীবনটা ফিরে পাবো না। চাইলেও এখন আর বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে জমে আড্ডা দিতে পারব না। ছোটখাটো বিষয়ে প্রতিযোগিতা হবে না। লড়াই ঝগড়া বাঁধবে না। বোডিংয়ের পাতলা ডাল আর আঠালো ভাতের জন্যে সিরিয়ালে বসতে হবে না। ডালের নিচে নাকি এলেম থাকে— এই প্রবাদটাও আর কেউ বলবে না মজা করে। উস্তাদদের মাইর, শাসন কিংবা স্নেহের মুহূর্তগুলো স্মৃতিতে অনন্য হয়ে থাকবে। ফজরের সময় দেরি করে উঠলে কিংবা মাগরিবে দেরি করে মাদরাসায় আসার দিনগুলোর কথা স্মরণে আসলে মনে হয়– এই তো সেদিনকার কথা এগুলো।

মাদরাসার জীবনের আমাদের সাপ্তাহিক ঈদ ছিল বৃহস্পতিবার। যখন বড় হতে শুরু করেছি তখন থেকে আরো আনন্দ নিয়ে উপভোগ করতাম এই দিনটা। যদিও বেশিরভাগ বৃহস্পতিবার আমার বাসায় কেটেছে। তবুও এই দিনটা ঘিরে এক অন্যরকম আনন্দ কাজ করত ভেতরে। কখনো রাতে মুড়িভর্তার আয়োজন থাকব।কখনো বা অন্যকিছু রান্না করে খেতাম। এমনও হয়েছে– আয়োজন সেড়ে বিছানায় যেতে যেতে প্রায় দুইটা বেজে গেছে। তবুও পার্টির আমেজ কমত না বিন্দুমাত্র। বরং এটাতেও ভিন্নরকম ফুর্তি খুঁজে পেতাম। ভাবতে গেলে কষ্ট হয়– এই দিনগুলো চাইলেও আর ফিরে পাব না!

একাডেমিক জীবনের একটা উল্লেখযোগ্য পার্ট হলো পরীক্ষা। এটাকে নিয়ে একেকজনের স্মৃতি একেকরকম। আমি তুলনামূলক কম বয়সে কিতাবখানায় উঠি। তাই পড়াশোনা আসলে কি জিনিশ এটা বুঝে উঠতেই আমার বছর খানেক চলে যায়। তার উপর বাসা থেকেও আমাকে বাড়তি প্রেশার দেয়া হত না। পরীক্ষার রেজাল্ট নিয়েও বাড়তি প্যারা খাইতে হতো না। তারউপর আমার সব সময় আগ্রহ থাকত সিলেবাসের বাইরের বইপত্রের প্রতি। গল্প উপন্যাস সাহিত্য কবিতা ইতিহাস আরো নানান বিষয়ের বইপত্রের প্রতি আমার একটা নেশা কাজ করত। তাই দরসের ফাঁকে এমনকি দরসে বসেও আমি অনেক সময় বাইরের বই পড়তাম। এই অতিরিক্ত বাইরের বই পড়ার ‘বদ’ অভ্যাসটা আমি দাওরায় উঠেও ছাড়তে পারি নাই। নিচের ক্লাসে থাকতে ভাবছিলাম যে উপরে উঠে হয়ত এটা আর হয়ে উঠবে না। তখন ক্লাসের চাপে পড়ে হয়ত এই আদতটা ছুটে যাবে। কিন্তু আমার এইটা আর হয়ে উঠে নাই। আমি মেশকাত দাওরার বছরও বাইরের বইপত্র পড়ছি। পত্রিকার কাজ করছি। তবে আল্লাহর খাস রহমতে রেজাল্ট মোটামুটি ভালো হওয়ায় কেউ আর এগুলোকে পাত্তা দিত না। জানি না এইটা আমার জন্যে ভালো হইছে নাকি মন্দ।

রাতজেগে পড়াশোনা, ফাঁকিবাজি, বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে দুষ্টামি ফাইজলামি, খেলাধুলা, উস্তাদদের শাসন, আদর মাদরাসার সার্বিক পরিবেশ— আমি এই সবগুলাকেই প্রবলভাবে মিস করব। সঙ্গীসাথী সবার সাথে তো এখন যোগাযোগও নাই। জানি না কে কোথায় আছে কিভাবে আছে। তবে দোয়া করি, আল্লাহ যেন সবাইকে সম্মানের সাথে রাখেন। জীবনের কারুর প্রতি মুহতাজ না বানান।

উস্তাদদের মধ্যে আলহামদুলিল্লাহ সবাই জীবিত আছেন। দোয়া করি সবাইকে বরকতময় জিন্দেগি নসিব করেন।দুনিয়ার মতো আখেরাতেও আমাদেরকে একসাথে বেহেশতে যাওয়ার তাওফিক দেন।

আমি নিজের জন্যেও দোয়া চাই, যেন উম্মতের খেদমতের নিয়তে, ইসলামের জন্যে নিঃসার্থভাবে কিছু করতে পারি—সেই যোগ্যতা অর্জন করতে পারি। আমাদের আকাবির আসলাফের রেখে যাওয়া আদর্শ নিজের মধ্যে ধারণ করতে পারি। ইসলামের সহিহ মেজাজ মানহাজ বুকের ভেতর লালন করতে পারি।


২৮। ০৩। ২০২৬
শনিবার
মালিবাগ, চৌধুরীপাড়া, ঢাকা ১২১৯

ট্যাগ: #চিন্তা #তাখাসসুস #মাদরাসা #স্মৃতি #দাওরা #কিতাবখানা
📤 লেখাটি শেয়ার করুন:
Facebook WhatsApp
পাঠক প্রতিক্রিয়া: 👁️ -- পঠিত